‘ডট বাংলা’ ডোমেইন বরাদ্দ পেল বাংলাদেশ

‘ডট বাংলা’ ডোমেইন বরাদ্দ পেল বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে বাংলাদেশ অবশেষে নিজস্ব ডোমেইন হিসেবে ইন্টারন্যাশনালাইজড ডোমেইন নাম (আইডিএম) ডট বাংলা (. বাংলা) বরাদ্দ পেয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম তুরস্ক থেকে টেলিফোনে বাসসকে জানান, ‘ইন্টারনেট করপোরেশন অব অ্যাসাইন্ড নেমস অ্যান্ড নাম্বার্স (আইসিএএনএন) আজ বাংলাদেশের অনুকূলে ডট বাংলা ডোমেইন বরাদ্দের ঘোষণা দেয়।’

তারানা হালিম তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আরেকটি কাজ সম্পন্ন হলো। অনেক চেষ্টার পর ডট বাংলা ডোমেইন বাংলাদেশের অনুকূলে আইকান বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত ডোমেইনটি পাওয়ার জন্য সিয়েরা লিওনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। বাংলাদেশের পক্ষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম আইকানের কাছে তুলে ধরেন, বাংলাদেশ একমাত্র দেশ; যারা মাতৃভাষা বাংলার জন্য সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে, শহীদ হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই এ ভাষার উপর বাংলাদেশের জনগণের অধিকার সবার আগে।ডট বাংলা বাংলাদেশের দ্বিতীয় কান্ট্রি কোড টপ-লেভেল ডোমেইন (সিসি-টিএলডি)।এই ডোমেইন বাংলা ভাষায় ওয়েব ঠিকানার জন্য বোঝানো হয়। ইন্টারনেটে একটি রাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের স্বীকৃতিও হলো এই ডোমেইন। আর প্রথমটি হলো ডট বিডি।

প্রসঙ্গত, ইন্টারনেটে ডোমেইন নাম, ঠিকানা বরাদ্দকারী সংস্থা হলো ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নম্বরস (আইসিএএনএন) বা আইকান। আইসিএএনএন ইন্টারন্যাশনালাইজড ডোমেইন নেম (আইডিএন) হিসেবে ডট বাংলার প্রথম পর্যায়ের অনুমোদন দেয়।

dot_bangla_reg_info

গত বছরের ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ডোমেস্টিক নেটওয়ার্কিং কো-অর্ডিনেশন কমিটির (ডিএনসিসি) বৈঠকে বিটিসিএলকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে ডট বাংলার গতি হয়। এর তত্ত্বাবধানকারীর দায়িত্ব পায় বিটিসিএল। যদিও এর আগে ৪ বছর ধরে অভিভাবকহীন ছিল ডট বাংল‌‌‌া।

জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এটি পেতে আবেদন করা হয়। আইকান বাংলা ভাষার জন্য স্ট্রিং ইভ্যালুয়েশন (বাংলা অক্ষরগুলো চেনার জন্য নির্দিষ্ট কোড আইডিএন সিসিটিএলডি) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইন্টারনেট অ্যাসাইন্ড নম্বরস অথরিটি (আইএএনএ) বাংলার জন্য কোডটি (আইডিএন সিসিটিএলডি) অনুমোদনও (ডিএনস রুট জোনে ডেলিগেট) করে।

২০১২ সালে ডট বাংলা ব্যবহারের অনুমতি পেলেও পদ্ধতিগত এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারায় ডট বাংলা পুরোপুরি বাংলাদেশের হয়নি। এখন সব আশঙ্কা দূর হলো ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর স্ট্যাটাসে।

Comments are closed.